ছাত্র সেনা প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট:
মহান আল্লাহপাক সর্বশক্তিমান,সদা সর্বত্র বিরাজমান,লা শারীক।তাঁর মহত্ব বিশালত্ব মানুষের ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যতার অতীত।সমগ্র সৃষ্টি তার আমোঘ নিয়মের অধীন।তিনিই একমাত্র সার্বভৌম শক্তি,একমাত্র শাসক,একমাত্র আদেশদাতা।তিনিই স্বয়ং সম্পূর্ণ তিনিই গানীউন হামীদ। রাহমাতুল্লিল আলামিন শাফিউল মুজনেবীন হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা(দঃ)সৃষ্টিকুল শ্রেষ্ঠ সর্বশেষ রাসুল,সমগ্র মানবজাতির জন্য শ্রেষ্ঠতম উদাহরন।তিনি পরম পবিত্র,সকল দোষত্রুটি ও সমালোচনার উর্ধ্বে।তিনি একাধারে শ্রেষ্ঠনবী,রাষ্ট্রনায়ক, অর্থনীতিবিদ, আইনদাতা, প্রশাসক,সমাজবিদ ও সেনাপতি।তার(দঃ) প্রতি ভালোবাসা ব্যতিত আল্লাহরনৈকট্য প্রাপ্তির উপায় নাই।সকল নবী ও রাসুল পুতঃপবিত্র,খোলাফায়ে রাশিদা রাসুল(দঃ)এর সকল দিকের শ্রেষ্ঠ অনুসারী।সাহাবায়ে কিরাম এবং আহলে বায়েতগন উচ্চতর মর্যাদার অধিকারী।মাজহাবের ঈমামগন,ওলী আউলিয়া,মুজতাহিদ,মুফাচ্ছির এবংহাক্কানী উলামায়ে আল্লাহ-রাসুল (দঃ)এর যথার্থ প্রতিনিধি।
সুতরাং বিনা শর্তে বিনা দ্বিধায় আল্লাহ ও তার প্রিয় হাবিব (দঃ) এর আধ্যাতিক ও জাগতিক সকল দিকের বিশ্বস্ত অনুসরন খোলাফায়ে রাশেদা সাহাবায়ে কিরাম ও আহলে বায়েতদের প্রতি অকুন্ঠ নিষ্ঠা,ইমাম,অলীআউলিয়া,মুজতাহিদ,মুহাদ্দিস আলেম প্রমুখের প্রতি প্রগাড় শ্রদ্বাই হলো ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ই ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা বিশ্বাসী।আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ই পরিপুর্ণ ইসলাম কায়েমের চিরায়ত জ্বিহাদে আত্ননিইয়োজিত।সুতরাংনাম।আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের পথই একমাত্র সিরাতুল মুস্তাকীম।
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (দঃ) ভবিষ্যতবানী করেছেন বনী ইস্রাঈল সম্প্রদায় বাহাত্তর দলে বিভক্ত হয়েছিল। কিন্তু আমার উম্মত বিভক্ত হবে তিহাত্তর দলে। এদের মধ্যে একটি দল ব্যতিত সবই জাহান্নামী।সাহাবাগন (রাঃ) আরজ করলেন ইয়ারাসুল্লাহ(দঃ) তন্মধ্যে মুক্তি পাবে কারা? তিনি ইরশাদ করেছেন যারা আমি এবং আমার সাহাবিদের আদর্শে প্রতিষ্ঠিত থাকবে।(ছিহাছিত্তা) এ হাদিসের ব্যাখ্যায় মিরকাত শরহে মিশকাত এর প্রনেতা সর্বজন স্বীকৃত হাদিসবেত্তা মোল্লা আলীক্বারী (রহঃ) উক্ত কিতাবে উল্লেখ করেছেন এতে সন্দেহের অবকাশ নেই যে,উপরোল্লেখিত হাদিসে বর্ণিত নাজী বা জান্নাতী দল হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত বা জামাআতে আহলে সুন্নাত। তাফসীরকারক,হাদিস বিশারদ,মাজহাবের ইমাম ও আউলিয়া কিরামগন এ জামাতের বা দলেরই অর্ন্তভূক্ত।
এক
ঔপনিবেশিক শাসন শোষনের বিরুদ্বে এক অতুলনীয় রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যেমে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা।এই স্বাধীনতার জন্য অস্ত্রধারন করেছে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্বা,প্রান দিয়েছে অগনিত মানুষ,অযুত পরিবার স্বীকার করেছে অবর্ননীয় ত্যাগ তিতিক্ষার।কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় সঠিক নেতৃত্ব,সংগঠন ও সঠিক দিকদর্শনের অভাবে রক্তমুল্ল্যে অর্জিত এই সুফল আজও বাংলাদেশ এর আপামর জনসাধারনের ঘরে ঘরে পৌছায়নি। অনেক তথাকথিত আদর্শের মহড়া হয়েছে কিন্তু নিপিড়িত মানবতার মুক্তি আজো রয়ে গেছে সুদুর পরাহত।আজও বাংলাদেশের ১৪ কোটি মানুষের চরম দারিদ্রতা,প্রবঞ্চনা,হতাশা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুল্যে গড়ে উঠেছে কয়েকশত কোটিপতি পরিবার।ঘুষ,দূর্নীতি,কালোবাজারী,চোরাচালানী,খূন রাহাজানি,চুরি ডাকাতি সকল রেকর্ড অতিক্রম করেছে।অশ্লীলতা,মাদকাসক্তি,বেকারত্ব ও হতাশা জনগনকে বিশেষ করে তরুন সমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে।অর্থনৈতিক ভাবে দেশ আজ হয়ে পড়েছে ভিক্ষা নির্ভর।একদিকে আওড়ানো হচ্ছে ইসলামের বুলি অন্যদিকে যাবতীয় অনৈতিক ও অনৈসলামিক কর্মকান্ডকে দেওয়া হচ্ছে বেপরোয়া পৃষ্ঠপোষ্কতা।এই শ্বাসরুদ্বকর অবস্থার কবল থেকে ১৪ কোটি আদম সন্তানের মুক্তির উপায় কি?
দুই
বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ ধর্মপ্রান মুসলমান।এই মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে বহু তন্ত্রমন্ত্রের এক্সপেরিমেন্ট হয়েছে,বহু দফা ওয়াদার গলাবাজী হয়েছে,আজও হচ্ছে কিন্তু ইতিহাস প্রমান করেছে, এতোদিন যে পথ অনুসৃত হয়েছে সেপথে মুক্তির কন সম্ভাবনা নেই।
শতাব্দীর অভিজ্ঞতা থেকে এটা স্বতঃসিদ্ব রুপে প্রমানিত হয়েছে যে,১৪ কোটি মানুষের সার্বিক মুক্তির একমাত্র পথ বাংলাদেশের মাটিতে সত্যিকার ইসলামী শাষন প্রতিষ্ঠা আর কুরআন-সুন্নাহ এর একনিষ্ঠ অনুসরনও বাস্তবায়ন।আর এ কাজ সম্ভব একমাত্র সম্ভব আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের।আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারীরাই পুর্ণাঙ্গ ইসলামী জীবন দর্শনে বিশ্বাসী অন্যান্য সকল দল,উপদল বাতিলপন্থী।তারা কোন না কোন ফির্কার অন্তর্ভূক্ত।
তিন
যেহেতু ইসলাম একটি পুর্ণাঙ্গ জীবন দর্শন সেহেতু কায়েম করতে হবে দেশ ও সমাজের ক্ষেত্রব্যাপী। দেশের সামাজিক রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,প্রাশাসনিক সাংস্কৃতিক সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তার রাসুল (দঃ) এর বিধি বিধান কায়েমের মাধ্যমেই ইসলামের পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব।তার জন্য প্রয়োজন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারী সকল ওলী আউলিয়া,পীর মাশায়েখ, মুজতাহিদ,মুফাচ্ছির, মুহাদ্দিস,ফকির,আলেম, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্বিজীবি,ব্যবসায়ী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ,শ্রমিক,কর্মকর্তা কর্মচারী,ছাত্রছাত্রীদের ইস্পাত কঠিন ঐক্য।
চার
বিশ্বজুড়ে আজ বাজছে পুজিবাদ সমাজতন্ত্র সহ বিভিন্ন তথাকথিত ইজমের অনিবার্য মৃত্যুঘন্টা।তাই এসব ইজমের অনুসারীরা মরিয়া হয়ে শুরু করেছে শাশ্বত ইসলামের বিরুদ্বে চক্রান্ত।বাংলাদেশে ও চলছে এদের গভীর ষড়যন্ত্র।তাছাড়াখারেজী শিয়া,মোতাজিলা,মুর্জিয়া,নাজজারিয়া,জাবারিয়া,মোশাবেহা,কাদিয়ানী,মওদুদীবাদ,ওহাবীবাদসহ বিভিন্ন বাতিল সম্প্রদায় ইসলামের নামে স্বীয় মনগড়া দল ভবিষ্যতের কর্ণধার ছাত্র সমাজকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায়,লিপ্ত রয়েছে। এই পরিস্থিতিরমোকাবেলার জন্যই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন তোমাদের মধ্যে একটি দল থাকতে হবে,যে দল মানুষকে সুকর্মের দিকে আহবান জানাবে এবং দুষ্কর্ম থেকে বিরত রাখবে। এ ধরনের মানুষেরাই হবে কল্যান প্রাপ্ত।
এই দায়িত্ববোধ থেকে ইসলাম বিরোধী ও বাতেল পন্থীদের মোকাবেলায় বাংলাদেশে সত্যিকার ইসলামি সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত এর অনুসারী সকল মানুষকে বিশেষঃত রাসুল (দঃ) প্রেমে উদ্দীপ্তসত্য সন্ধানী সমাজকে ঐক্যবদ্ব্ করার উদ্দেশ্যে ১৯৮০ সালের ২১ জানুয়ারী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার জন্ম।এটাই দেশব্যপী সুন্নী জনতার একক আদর্শবাদী সংগঠন।